প্রাচ্যনাট উঠোনের নাটক স্টুডিও থিয়েটার হলে

Schedule

Tue, 18 Aug, 2026 at 07:00 pm

Location

Bangladesh Shilpakala Academy | Dhaka, DA

Advertisement

প্রাচ্যনাট উঠোনের নাটক স্টুডিও থিয়েটার হলে
যোগাযোগ : ০১৩১৩৭৭৪৪০০
অনলাইন টিকিট লিংক: https://forms.gle/L55qZJCTSquY9c7V6
"আমরা বহুকাল হইতে অবরোধ থাকিয়া থাকিয়া অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছি; সুতরাং অবোরোধের বিরুদ্ধে বলিবার আমাদের- বিশেষত আমার কিছু নাই”- বলেছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
কিন্তু আমরা বলতে চাই। এখনই বলার সময়, তাই আমদের এই আয়োজন..
নাটক: আঁধারে ঘোর
রচনা ও নির্দেশনা: আন্দোলন মিঠুন
নাটক: কুতুব'
রচনা: মো. শওকত হো‌সেন স‌জিব
নির্দেশনা: এবি সিদ্দিকি
তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার।
সময়: সন্ধ্যা ৭টা
স্থান: স্টুডিও থিয়েটার হল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা।

আঁধারে ঘোর
রচনা ও নির্দেশনা: আন্দোলন মিঠুন
নাটকের কথা
'আঁধারে ঘোর' এক শেকড়হীন অস্তিত্বের অ্যাবসার্ড আখ্যান। পৈশাচিক লালসায় ক্ষতবিক্ষত এক নারী তার অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানকে আঁধারে ফেলে দিয়ে দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর এক ঘরে নিজেকে স্বেচ্ছাবন্দি করে রাখে। এই রুদ্ধ ঘরে তার একমাত্র সঙ্গী আয়না—যেখানে সে নিজেরই এক খণ্ডিত সত্তার নির্মম প্রতিবিম্ব খুঁজে পায়। সমাজ ও পঙ্গু আইনের প্রতি তার তীব্র ঘৃণা থাকলেও, অন্তরে জেগে থাকে বেঁচে থাকার এক আদিম তৃষ্ণা। সে বাজারে যায়, চুলে লাল ফিতা বাঁধে, জীবনকে নতুন করে ভালোবাসতে চায়। কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষ তাকে গ্রহণ না করে বারবার মনে করিয়ে দেয় সেই লাঞ্ছিত অতীত।
পরিত্যক্তা নারী তখন মেকি পৃথিবীর সব মায়া ছিন্ন করে নিভৃত এক জীবন বেছে নেয়। তার বন্ধ জানালার ওপাশে, বাইরের জগত মৃত হলেও, মনের গহীনে অবিরাম ডানা ঝাপটায় মুক্তির প্রতীক এক 'আগুন-পাখি'। সে প্রহর গোনে সেই অমোঘ ভোরের, জানালার খিল খুললেই, আলোর তীব্র স্পর্শে নিথর হবে তার শরীরের ঘ্রাণ; শীতল কবরের মতো নেমে আসবে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। আর সেই অসীম শূন্যতার বুকেই জীবনের জয়গান গেয়ে অক্ষয় জেগে থাকবে একটি 'হলুদ ফুল'।
নির্দেশকের কথা
"যদি ঘরে ফেরা না হয় বল তবে গল্পের সাক্ষী কে রবে!"
এই নিগূঢ় জিজ্ঞাসা থেকেই ‘আঁধারে ঘোর’-এর যাত্রা শুরু... । একাকীত্ব তো আসলে প্রবলভাবে বেঁচে থাকারই এক গোপন, তীব্র আর্তি। ২০১৮ সালে বোনা এই অ্যাবসার্ড দৃশ্যকল্প আজ ২০২৬-এর এই সময়ে এসে এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে আমাদের।
স্বাধীনতার পর থেকেই এ দেশে নারী ও শিশুর ওপর বয়ে চলা অনাকাঙ্ক্ষিত নির্যাতন আজ এক অবক্ষয়ে রূপ নিয়েছে। যখন চারপাশে সংস্কৃতির নানা শাখায় ও শিল্পের অঙ্গে অন্ধ আঘাত নেমে আসছে, তখন ‘আঁধারে ঘোর’ কেবল আর নাটক থাকে না, হয়ে ওঠে এক জীবন্ত প্রতিরোধ।
মঞ্চে এক শিল্পী লাইভ পেইন্টিং করতে গিয়ে ক্ষোভে ছবি ছিঁড়ে ফেলে, পরক্ষণেই শান্ত হয়ে আবার আঁকে—এ শুধু রঙের খেলা নয়, এই দমবন্ধ সময়ে বাংলার শিল্পীদের মরণপণ টিকে থাকার এক যৌথ প্রয়াস। দর্শকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, লাইভ পেইন্টিংটি সংগ্রহ করে আপনারা আমাদের এই দ্রোহের সহযাত্রী হবেন।
‘আঁধারে ঘোর’ কোনো বিলাসী ড্রয়িংরুমের আলোচনা নয়; এ হলো সমাজের ক্ষতবিক্ষত রূপের রক্তাক্ত দলিল। মূল্যায়ন ছাপিয়ে আমরা চেয়েছি সময়ের সত্যকে ক্যানভাস আর সংলাপে ছুঁড়ে দিতে।
আঁধারে ঘোর টিমের যৌথ মননে ও পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে এই প্রযোজনা। কৃতজ্ঞতা ‘প্রাচ্যনাট’ পরিবারকে—এই ঘোর অন্ধকারে আমাদের সৃষ্টির সাহস ও শক্তি জোগানোর জন্য। আমরা চাই, কেউ আর আঁধারের ঘোরে হারিয়ে না যাক; বরং পবিত্র আলোয় ভরে উঠুক প্রতিটি মানব হৃদয়।
আন্দোলন মিঠুন
জুন, ২০২৬
অভিনয়ে:
নারী - ডায়না ম্যারেলিন/ সুপ্তি
আয়না - তাসমিয়া মীম/ ঝুমকা মণ্ডল
নারী ১। বীরাঙ্গনা - সুপ্তি দাস চৈতী/ অপালা
নারী ২। শিশু - জেসিকা জসিন্তা/ ঝুমকা
নারী ৩। শিল্পী- জেসমিন জাহান ঝুমা
নেপথ্যে
রচনা ও নির্দেশনা: আন্দোলন মিঠুন
মুভমেন্ট অ্যান্ড মোশন রিফাইনমেন্ট: স্নাতা শাহরিন
সহযোগী নির্দেশক ও কোরিওগ্রাফার: ডায়না ম্যারেলিন
নাট্য সংযোজন: নিলয় সরকার, সুপ্তি দাস চৈতী
মিউজিক ডিজাইন: চার্লস চৌধুরী (বন্ধু, প্রাচ্যনাট)
মিউজিক সহকারী: নিলয় সরকার, অনসূয়া চক্রবর্তী অপালা
কস্টিউম: জেসমিন জাহান ঝুমা
প্রপস: ভোর ও মৃদুলা
সেট ও লাইট: তাপস সরকার রুদ্র
পোস্টার ও ইনস্টলেশন: শুভ্র রয় দেব
ফটো ও ভিডিওগ্রাফি: নাজমুল হোসাইন হিমেল
প্রযোজনা অধিকর্তা: মো: মোখলেছুর রহমান
সার্বিক সহযোগিতায়: শাহানা রহমান সুমি, তানজি কুন

নাটক: কুতুব'
রচনা: মো. শওকত হো‌সেন স‌জিব
নির্দেশনা: এবি সিদ্দিকি
গল্প সংক্ষেপ
শীতের এক রাতে গ্রামের পঞ্চায়েত বসেছে শরীফা নামের এক নারীর বিচার করতে। অভিযোগ—স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে তিনি পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। ঘটনাটি যেন সবার কাছেই স্পষ্ট; তাই রায় ঘোষণাও যেন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু বিচার যত এগোয়, ততই উন্মোচিত হতে থাকে নানা দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক সংস্কার এবং ক্ষমতার অদৃশ্য প্রভাব। একের পর এক যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির ভেতর প্রশ্নের মুখে পড়ে শুধু শরীফা নন, বিচারপ্রক্রিয়াটিও।
‘কুতুব’ কেবল একটি বিচা‌রের গল্প নয়; এটি এমন এক সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ক্ষমতা, প্রভাব এবং পূর্বধারণা অনেক সময় সত্যের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বাস্তবধর্মী নির্মাণশৈলীতে গ্রামবাংলার চেনা মানুষ ও তাদের সহজ-সরল অথচ জটিল মানসিকতার মধ্য দিয়ে নাটকটি ন্যায়বিচার, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ক্ষমতার প্রকৃত মুখ উন্মোচনের চেষ্টা করে।
নির্দেশকের কথা
আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য গল্প ছড়িয়ে আছে, যেগুলো সংবাদপত্রের শিরোনাম হয় না, ইতিহাসের পাতায়ও স্থান পায় না। কিন্তু সেই গল্পগুলোর প্রতিটি চরিত্র আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার সাক্ষী।
কুতুব তেমনই একটি গল্প। এটি শুধু শরিফা নামের একজন নারীর গল্প নয়, বরং সেই হাজারো নারীর প্রতিচ্ছবি, যারা কোনো অপরাধ না করেও মিথ্যা অপবাদ, সামাজিক অবিচার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারহীনতার শিকার হন।
শরিফা একজন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় মানুষ। কিন্তু তার এই সহজ-সরল মেলামেশাকেই সমাজের কিছু মানুষ তার চরিত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। ক্ষমতার লোভ, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা কীভাবে একজন নির্দোষ মানুষের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, সেই নির্মম বাস্তবতাই এই নাটকের মূল বিষয়।
তবে কুতুব শুধু অন্যায়ের গল্প নয়, এটি সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতারও গল্প। অন্ধকার যত গভীরই হোক, সত্য একদিন আলো হয়ে সামনে আসে। সেই বিশ্বাস থেকেই এই নাটকের নির্মাণ।
আমাদের প্রত্যাশা, এই নাটক শুধু দর্শকদের বিনোদন দেবে না, বরং সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। একজন মানুষকে অপবাদ দেওয়ার আগে সত্য জানার গুরুত্ব উপলব্ধি করাবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস জোগাবে। যদি এই নাটক একজন দর্শকের মনেও সামান্য প্রশ্নের জন্ম দেয়, সামান্য মানবিকতা জাগিয়ে তোলে, তবেই আমাদের এই প্রয়াস সার্থক হবে।
— এবি সিদ্দিকি
২৭ জুন ২০২৬
কুতুব'
রচনা: মো. শওকত হো‌সেন স‌জিব
নির্দেশনা: এবি সিদ্দিকি
কুশীলব:
তৈয়ব আলী: তাপস সরকার
ফারুক হোসেন: তাপস সরকার রুদ্র
আব্দুল মান্নান: নাজমুল হোসাইন হিমেল
বাদশা মিয়া: হাসানুল ফেরদৌস সাদিদ
রিপন মোল্লা: মোঃ জিম বাবু
নুর উদ্দিন: শুভ্র দেব রায়
শরীফা: শতাব্দী টুকটুকি, মরিয়া আক্তার মৃদুলা, ফাতিমা তুজ জোহরা যুথি
আলোক পরিকল্পনা: মো. শওকত হো‌সেন স‌জিব
আলোক প্রক্ষেপন: স্বাতী ভদ্র
সংগীত পরিকল্পনা ও প্রয়োগ: ফুয়াদ বিন ইদ্রিস, অনসূয়া চক্রবর্তী, সৈয়দা‌ মাইশা জাহির, অর্নব রায় অংকন
সেট পরিকল্পনা: এবি সিদ্দিকি
সেট ও প্রপস নির্মান: তাপস সরকার রুদ্র, পুজন রায়, মোঃ জিম বাবু
পোষাক পরিকল্পনা: মরিয়া আক্তার মৃদুলা
পোস্টার: শুভ্র দেব রায়
কোরিয়োগ্রাফি: ডায়না ম্যারেলিন
প্রযোজনা অধিকর্তা: তাপস সরকার
নতুন নতুন অভিনেতা, ডিরেক্টর তৈরী করার লক্ষ্যে প্রাচ্যনাট কাজ করে যাচ্ছে । তারই ধারাবাহিকতায় স্টুডিও হলে প্রাচ্যনাট নিয়ে এলো এই উঠোন নাটকগুলো ।
দর্শক আমরা আপনাদের অপেক্ষায় রইলাম...
Advertisement

Where is it happening?

Bangladesh Shilpakala Academy, জাতীয় নাট্যশালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ, Dhaka, Bangladesh

Event Location & Nearby Stays:

Know what’s Happening Next — before everyone else does.
Prachyanat - \u09aa\u09cd\u09b0\u09be\u099a\u09cd\u09af\u09a8\u09be\u099f
Host or PublisherPrachyanat - প্রাচ্যনাট

Ask AI if this event suits you