Norok Gulzar
Advertisement
নরক গুলজার’ নাটকটি বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে এক মাইলফলক
সৃষ্টির কর্তা ব্রহ্মা! মৃত্যুর যম! জীবন মরণের পাটিগণিত কষেন তাঁরাই! নথিভুক্ত করেন চিত্রগুপ্ত! কিন্তু এখানে ব্রহ্মা ব্যস্ত অন্য অঙ্কে…গদির অঙ্কে! ক্ষমতার লোভেই মর্তের মৃত যত ভন্ড দালাল যোতদার পুনর্জন্ম নিয়ে ফিরতে চায় পৃথিবীতে! তারা কিডন্যাপ করে যমরাজেরই স্ত্রীকে! অসহায় যম যায় ব্রহ্মার দরবারে। নারদ বাঁটুল বিশ্বাসের ছদ্মবেশে ঢোকে নরকে অপরাধের সমীকরণ বুঝতে! মরণ তো শুধু অত্যাচারীর হয় না, গরীব অত্যাচারিতও মরে! মানিকের মত! যমের স্ত্রীকে উদ্ধারের নামে ‘কর্তা’ যাকে ঠেলে দেন নরকের অন্ধকারে!
বাংলার সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটককার শ্রী মনোজ মিত্রের ‘নরক গুলজার’ ছিল সত্তরের দশকের বাংলা তথা ভারতের সমাজ এবং রাজনীতির এক চালচিত্র! সেখানে ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রশক্তি তার গদি টিকিয়ে রাখার ‘দায়ে’ আঁতাত করে শোষকের সাথে।
যত চোর-চিটিংবাজ-গুন্ডা-দালাল-খুনি হয়ে ওঠে শাসকের ‘জোটসঙ্গী’! আর গরীব সাধারণ জনগণ দাবার বোড়ে। এই যেন আমাদের দেশের রাজনীতির সনাতন ধর্ম! উপমহাদেশের রাজনীতির হাতবদল হলেও ভোলবদল হয়নি কোনভাবেই। তাই মনোজ বাবুর এই কালজয়ী নাটক আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং সুদূর ভবিষ্যতেও হয়তো এই টেক্সট আরও প্রাসঙ্গিক এবং আরও প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াবে – আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই আশঙ্কাও একেবারেই অমূলক নয়!
ব্রহ্মা যখন ঘোষণা করেন,’আমার তো গদির মোহ কোনদিনই নেই।’ আনমনেই ঠোঁটের কোণে একটা চওড়া হাসি আসে। সত্যিই! সাহিত্যিকেরা কি ভবিষ্যৎ দ্রষ্টাও হন?
পলিটিক্যাল স্যাটায়ারের এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন ‘নরক গুলজার’। তখনও আমরা শাসকের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে লড়াই করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। এখনও আমরা মাঠে ময়দানে রাজপথে বারবার জোট বাঁধছি, কিন্তু এই শোষণের ভিত কোনভাবেই টলাতে পারছি না! শাসক তার আধিপত্যবাদের দর্শন সমাজে সংসারে নিপুণ হাতে চারিয়ে দিচ্ছে। কোথাও ধর্মের নামে পাপ-পূণ্যের দোহাই দিয়ে…কোথাও পেশিশক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভয়ের আবহাওয়া সৃষ্টি করছে।
যে ভয় কাটিয়ে আমাদের ক্ষমতা নেই মেরুদন্ড সোজা করে দঁড়ানোর! আর এই অন্ধকারে যাঁর কাছে সত্য চেয়ে, জীবন চেয়ে, আলো চেয়ে দরবার করা যায়, সেই ভগবান নিদ্রাচ্ছন্ন। তাই নাট্যকারের আক্ষেপ, ‘ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন…’। আজও দেশ তথা রাজ্য জুড়ে যখন খুন ধর্ষণ দুর্নীতি লুঠপাট চলছে, তখনও সেই ভগবান যেন ঘুমিয়ে আছেন অকাতরে! এই নিদ্রা কবে ভাঙবে জানি না। তবে আমাদের উচিত এই ঘুমকে ব্যঙ্গ করা। হাতুড়ির আঘাতে এই ঘুম ভেঙে দেওয়া। মানুষকে আরেকভাবে সচেতন করা। জাগিয়ে তোলা।
সৃষ্টির কর্তা ব্রহ্মা! মৃত্যুর যম! জীবন মরণের পাটিগণিত কষেন তাঁরাই! নথিভুক্ত করেন চিত্রগুপ্ত! কিন্তু এখানে ব্রহ্মা ব্যস্ত অন্য অঙ্কে…গদির অঙ্কে! ক্ষমতার লোভেই মর্তের মৃত যত ভন্ড দালাল যোতদার পুনর্জন্ম নিয়ে ফিরতে চায় পৃথিবীতে! তারা কিডন্যাপ করে যমরাজেরই স্ত্রীকে! অসহায় যম যায় ব্রহ্মার দরবারে। নারদ বাঁটুল বিশ্বাসের ছদ্মবেশে ঢোকে নরকে অপরাধের সমীকরণ বুঝতে! মরণ তো শুধু অত্যাচারীর হয় না, গরীব অত্যাচারিতও মরে! মানিকের মত! যমের স্ত্রীকে উদ্ধারের নামে ‘কর্তা’ যাকে ঠেলে দেন নরকের অন্ধকারে!
বাংলার সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটককার শ্রী মনোজ মিত্রের ‘নরক গুলজার’ ছিল সত্তরের দশকের বাংলা তথা ভারতের সমাজ এবং রাজনীতির এক চালচিত্র! সেখানে ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রশক্তি তার গদি টিকিয়ে রাখার ‘দায়ে’ আঁতাত করে শোষকের সাথে।
যত চোর-চিটিংবাজ-গুন্ডা-দালাল-খুনি হয়ে ওঠে শাসকের ‘জোটসঙ্গী’! আর গরীব সাধারণ জনগণ দাবার বোড়ে। এই যেন আমাদের দেশের রাজনীতির সনাতন ধর্ম! উপমহাদেশের রাজনীতির হাতবদল হলেও ভোলবদল হয়নি কোনভাবেই। তাই মনোজ বাবুর এই কালজয়ী নাটক আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং সুদূর ভবিষ্যতেও হয়তো এই টেক্সট আরও প্রাসঙ্গিক এবং আরও প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াবে – আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই আশঙ্কাও একেবারেই অমূলক নয়!
ব্রহ্মা যখন ঘোষণা করেন,’আমার তো গদির মোহ কোনদিনই নেই।’ আনমনেই ঠোঁটের কোণে একটা চওড়া হাসি আসে। সত্যিই! সাহিত্যিকেরা কি ভবিষ্যৎ দ্রষ্টাও হন?
পলিটিক্যাল স্যাটায়ারের এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন ‘নরক গুলজার’। তখনও আমরা শাসকের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে লড়াই করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। এখনও আমরা মাঠে ময়দানে রাজপথে বারবার জোট বাঁধছি, কিন্তু এই শোষণের ভিত কোনভাবেই টলাতে পারছি না! শাসক তার আধিপত্যবাদের দর্শন সমাজে সংসারে নিপুণ হাতে চারিয়ে দিচ্ছে। কোথাও ধর্মের নামে পাপ-পূণ্যের দোহাই দিয়ে…কোথাও পেশিশক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভয়ের আবহাওয়া সৃষ্টি করছে।
যে ভয় কাটিয়ে আমাদের ক্ষমতা নেই মেরুদন্ড সোজা করে দঁড়ানোর! আর এই অন্ধকারে যাঁর কাছে সত্য চেয়ে, জীবন চেয়ে, আলো চেয়ে দরবার করা যায়, সেই ভগবান নিদ্রাচ্ছন্ন। তাই নাট্যকারের আক্ষেপ, ‘ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন…’। আজও দেশ তথা রাজ্য জুড়ে যখন খুন ধর্ষণ দুর্নীতি লুঠপাট চলছে, তখনও সেই ভগবান যেন ঘুমিয়ে আছেন অকাতরে! এই নিদ্রা কবে ভাঙবে জানি না। তবে আমাদের উচিত এই ঘুমকে ব্যঙ্গ করা। হাতুড়ির আঘাতে এই ঘুম ভেঙে দেওয়া। মানুষকে আরেকভাবে সচেতন করা। জাগিয়ে তোলা।
Advertisement
Where is it happening?
2, Cathedral Road, Maidan, Kolkata, West Bengal, Kolkata, West Bengal, India
Event Location & Nearby Stays:
Know what’s Happening Next — before everyone else does.
Host or PublisherAcademy of Fine Arts











